বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
  মেনু নির্বাচন করুন
শ্লোগান

 

পলিথিন বর্জন করুন, পাটপণ্য ব্যবহার করুন।

 

বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি) ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম!

বাংলাদেশের নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু প্রকৃতির অফুরন্ত আশীর্বাদ। এ অনন্য আশীর্বাদের কল্যাণে পৃথিবীর সবচেয়ে উৎকৃষ্টমানের পাট এ দেশে প্রচুর পরিমানে জন্মে। সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পাট উৎপাদন করে থাকে। এর ফলে বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশন মানসম্পন্ন পাটপণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারের অধিকাংশ চাহিদা পূরণ করে। বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশন আন্তর্জাতিক পাটপণ্যের বাজারে সবচেয়ে বড় উৎপাদন ও রপ্তানিকারক সংস্থা হিসেবে বহুল পরিচিত ও সমাদৃত।

বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশন সংক্ষেপে বিজেএমসি নামে পরিচিত। দীর্ঘ দিন যাবৎ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সবচেয়ে বড় এ সংস্থা বিশ্বব্যাপী ক্রেতাদের চাহিদা অনুসারে বিভিন্ন ধরণের গুণগত মানসম্পন্ন পাটপণ্য প্রস্তুত ও সরবরাহ করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। পাটপণ্যের বৈচিত্র ও উৎকর্ষতাসাধনের লক্ষ্যে নিরলস গবেষণা ও অব্যাহত আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া সংস্থাটির দীর্ঘ সাফল্যের মূলে নিহিত রয়েছে।

অনাদিকাল থেকে ব্যবহৃত কোষ্টা বা পাট মূলত প্রাকৃতিক তন্তু। নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের গুল্মজাতীয় উদ্ভিদের বাকল বা ছাল থেকে এর তন্তু বা আঁশ সংগৃহীত হয়। এর পারিবারিক ও  বৈজ্ঞানিক নাম টিলিশিয়া বা তিসিজাতীয় উদ্ভিদ। করকোরাস ক্যাপসুলারিস বা সুটি/বগি/তোষা/মিঠা পাট ও করকোরাস ওলিটরিয়াস বা গুটি/সাদা/দেশি/তিতা পাট এর দুটি প্রজাতি। উভয় প্রজাতির আঁশ হতেই পাটপণ্য প্রস্তুত করা হয়।

তবে উভয় প্রজাতির উৎকৃষ্ট মানের শক্ত ও সোনালি আভাযুক্ত আঁশবিশিষ্ট পাট উৎপাদনের জন্য উর্বর মাটি, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও সেই সঙ্গে ‍উষ্ণ আবহাওয়া ও প্রচুর বাতাস প্রয়োজন।উত্তরে হিমালয়, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর; মাঝখানে প্রকৃতির আশীর্বাদপুষ্ট অসংখ্য নদীবিধৌত উর্বর পলিমাটির দেশ, বাংলাদেশ প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে হাজার হাজার বছর যাবৎ স্বকীয় মহিমায় অনন্য বৈশিষ্টমন্ডিত পৃথিবীর সর্বোৎকৃষ্ট মানের পাট উৎপাদন করে গৌরবময় ঐতিহ্য অর্জন করেছে।   

বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় পাঁচলক্ষ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন গ্রেডের প্রায় ১০ লক্ষ টন পাট উৎপাদিত হয়।আভ্যন্তরীণ পাটশিল্পের প্রধান কাঁচামালের চাহিদা পূরণ করে অন্যান্য দেশের পাটশিল্পের জন্য কাঁচামাল হিসেবে উদ্বৃত্ত পাট রপ্তানি করা হয়।

প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই পাট প্রধানত পারিবারিক পর্যায়ে রশি, দড়ি, সূতা ও বস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত হতে থাকে।পরবর্তীতে এ প্রক্রিয়া কুটিরশিল্পে উন্নীত হয়। ষোড়শ শতকের শিল্পবিপ্লবের ফলে কুটিরশিল্পের গণ্ডি পেরিয়ে সুবৃহৎ পরিসরে পাটশিল্পের বিস্ময়কর কাঁচামাল হিসেবে বিভিন্ন প্রকার পাটজাত পণ্য তৈরির কাজে পাটের ব্যবহার ব্যাপকভাবে প্রচলন শুরু হয়।

পাটপণ্য ও পাটশিল্প শত শত বছর যাবৎ আকৃতি ও গুণগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অপরিহার্য অনুষঙ্গরূপে বিবেচিত হচ্ছে। নানাবিধ বৈচিত্রময় কাজে পাটপণ্যের ব্যবহার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পাট দিয়ে প্রধাণত যে সমস্ত পণ্য প্রস্তুত করে বাজারজাত করা হয়ঃ

  • সকল প্রকার কৃষিজাতপণ্য, খনিজপদার্থ, রাসায়নিকদ্রব্য, সার, সিমেন্ট পশম, তুলা ইত্যাদি মোড়কজাত করার জন্য ছালা, বস্তা, চট ও ব্যাগ
  • রশি, দড়ি ও সূতা
  • অটোমোবাইলের স্প্রিংয়ের জন্য জালি ও আসবাবপত্রের কভার
  • জাহাজের কার্গো সাজানোর জন্য চটকাপড়
  • খণির অভ্যন্তরে বায়ূ সঞ্চালন ও পর্দা হিসেবে ব্যবহারের জন্য বিশেষ ধরণের চটকাপড়
  • ফাঁপা কেবল পূরণের উপরণ
  • ছাদ ও মেঝে ঢাকার উপকরণ
  • দেয়াল ঢাকা ও সাজ-সজ্জার উপকরণ
  • পাদুকা বা জুতা-স্যান্ডেল তৈরির উপকরণ
  • বিভিন্ন প্রকার সাজ-সজ্জার উপকরণ
  • ভূমিধ্বস রোধের জন্য জিওটেক্সটাইল
  • পোশাক ও সৌখিনসামগ্রী

পাটের আদিবাস বাংলাদেশে। সঙ্গত কারণে, বাংলাদেশে উৎপাদিত পাট ও পাটপণ্যের বর্ণ, বুনন, উজ্জ্বলতা, দৈর্ঘ্য ও শক্তি বিশ্বব্যাপী ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে। এ সকল অনন্য বৈশিষ্ট্যের জন্য বাংলাদেশের পাট সোনালি আঁশ নামে সারা দুনিয়ায় খ্যাতি অর্জন করেছে।

বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে পাটচাষ ও পাটপণ্য উৎপাদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাপালন করেঃ

  • এ দেশের প্রায় ৫০ মিলিয়ন মানুষ পাট ও পাটপণ্য উৎপাদন ও বিপণন প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে।
  • প্রায় ৩৫ মিলিয়ন কৃষক পাট উৎপাদনে, ০.৩ মিলিয়ন দক্ষ শ্রমিক পাটপণ্য উৎপাদন ও ০.২ মিলিয়ন মানুষ পাটব্যবসা, পাট ও পাটপণ্য পরিবহন ও বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছে।
  • জিডিপিতে পাট খাতের অবদান প্রায় ৫%
  • পাটশিল্পের মাধ্যমে জাতীয় কর্মসংস্থানের পরিমান ১০% হতে ১৫%
  • কৃষকদের পাট প্রধান অর্থকরী ফসল হওয়ার কারণে গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে।
  • পাটের কচি ডগা ও পাতা পুষ্টিকর শাক হিসেবে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সারা দেশে প্রচুর পরিমানে খাওয়া হয়।
  • পাটের পরিত্যাক্ত দীর্ঘ কাণ্ড বা পাটখড়ি জ্বালানিরূপে ও বেড়া তৈরির উপকরণ হিসেবে গ্রামবাংলায় প্রচুর পরিমানে ব্যবহৃত হয়।
  • কাগজের মন্ড, পার্টিকেল-বোর্ড ও এ ধরণের শিল্পের সস্তা কাঁচামাল হিসেবে পাটখড়ির ব্যবহার এ দেশে ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে।সুলভে এ কাঁচামাল পাওয়ার কারণে এ ধরণের শিল্প-কারখানার সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
  • পাটগাছের পাতা ঝরে মাটির সঙ্গে মিশে জৈব সারের কাজ করে। এতে মাটির উর্বতা বৃদ্ধি পায় এবং পরবর্তী ফসলের ফলন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
  • পাট চাষের ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হয়।

প্রাকৃতিক তন্তু পাট অত্যন্ত পরিবেশবান্ধব। মানুষের তৈরি কৃত্রিম পলিমার জাতীয় তন্তুর বহুগুণ উপকারীঃ

  • পাটপণ্যের ভিতর দিয়ে সহজে বায়ূ চলাচল করতে পারে বলে তা ব্যবহার করা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত
  • পাটপণ্য প্রাকৃতিক ও সহজেই মাটিতে পচনশীল। মাটিতে মিশে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে, কিন্তু কৃত্রিম তন্তুর তৈরি পণ্য মাটিতে মিশে যায়না, বরং তা মাটির ছিদ্র বন্ধ করে দেয়ার ফলে উর্বরতা হ্রাস পায় এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে।
  • এক কথায়, পাটপণ্য ব্যবহারের ফলে মানবশরীর ও প্রকৃতির উপর কোন প্রকার বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করে না।